Ajker Patrika

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

ভোলা প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁদের স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁদের স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

১৪ দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের দাবিতে ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সিকদার সড়কের দালাল বাজার এলাকায় এই সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তির শিকার হয় যাত্রী ও পথচারীরা।

খবর পেয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিলে তাঁরা সড়ক থেকে সরে আসেন।

নিখোঁজ জেলেদের স্বজনেরা জানান, ১০ নভেম্বর ফারুক মাঝির নেতৃত্বে ১৩ জেলে মাছ ধরার একটি ট্রলারে করে বঙ্গোপসাগরে যান। ১১ নভেম্বর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান মিলছে না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা উদ্ধার অভিযানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এ জন্য উৎকণ্ঠায় থাকা স্বজনেরা দ্রুত সাগরে উদ্ধার অভিযান শুরুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।

জানা গেছে, ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রয়েছেন ট্রলার মালিক ফারুক (৫৩), মো. জাহাঙ্গীর (৩৮), মো. শামিম (২৩), মো. খোকন (৩৫), মো. সজিব (২২), মো. আলম (৪৬), হেলাল উদ্দিন (৪০), মো. ফারুক (৪২), মাকসুদুর রহমান (৪২), ছাব্বির (২৫) এবং নাছির, আব্দুল মালেক, মাকসুদ। তাঁদের বাড়ি লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

লালমোহনের ইউএনও মো. শাহ আজিজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষে সম্ভাব্য যা যা করণীয়, সবই করব। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশও পদক্ষেপ নিয়েছে। থানা থেকে নিখোঁজের বিষয়টি দেশের সব থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

টঙ্গীতে কাজ করতে এসে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, কারখানা ছুটি ঘোষণা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরে টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীর মিলগেট এলাকার হামিম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিসিএল (৩ নম্বর ইউনিট) সুইং বিভাগে কর্মরত শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

‎কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আজ কারখানাটির প্রায় সব শ্রমিক দুপুরের খাবার শেষে আবার কাজে যোগ দেন। এই সময় কারখানাটির অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎কারখানাটির নিরাপত্তাকর্মী পরেশ কান্তি দাস বলেন, দুপুরের খাবার শেষে সব শ্রমিক কারখানায় কাজ শুরু করেন। হঠাৎ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান কারখানার অন্য শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। আজ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে আজ সকালে একজন কারখানার কর্মী হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। খবরটি অন্য শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক, উদ্বেগ তৈরি হয়।

‎টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমানা হক বলেন, শারীরিক দুর্বলতা, বমি অনুভব হওয়া ও হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির অর্ধশতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রাথমিক সেবা শেষে প্রায় সবাই বাড়ি ফিরতে পারবেন।

‎হামিম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকালে কারখানার ফিনিশিং বিভাগে কর্মরত কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বেলা বাড়লে লুৎফরের মৃত্যুর খবরটি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাড়ির পাশের বাগানে মিলল সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের হিলিতে বাড়ির পাশের বাগান থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের গড়িয়াল গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর সবুর আকন্দ (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত অকিল আকন্দের ছেলে ও বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর বাসা থেকে বের হোন। এরপর তিনি বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহে ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ মণ্ডল (৩৭) মারা গেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদল কর্মী। সে পবহাটি এলাকার আফজাল মণ্ডলের ছেলে।

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মণ্ডলসহ অন্যরা পলাতক। আর ঘটনাস্থল থেকে জড়িতদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৌরভ আলম মণ্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত পাই। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসে। তাদের সবার বয়সই আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এর মধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে আর আমি তিনজনকে ঠেকাই। কিন্তু যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে তারাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু সৌরভকে চিনতে পারছি, বাকিদের চিনতে পারিনি।’

নিহতের স্ত্রী মোছা. সাথী বলেন, ‘আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। সন্তানদের কে দেখবে। যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদের যেন আল্লাহ কঠিন শাস্তি দেন।’

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে ঢুকেই সৌরভসহ অন্যরা মিলে মুরাদকে হত্যা করেছে। মুরাদের পেটে ছুরি মারে সৌরভ। মুরাদ আমার সঙ্গেই যুবদল করত। মুরাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে আজ এতিম হয়ে গেল। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সামছুজ্জোহা বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছি। থানায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

নড়াইল প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে হান্নান খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

হান্নান খান উপজেলার বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের বিরোধপূর্ণ একটি জমির মালিকানা নিয়ে ওই গ্রামের আয়ুব মোল্যা ও মিন্টু খানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ালে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। স্বজনেরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে হান্নান খান মারা যান।

পরিদর্শক জামিল কবির জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত