Ajker Patrika

ভোলা-ঢাকা পদযাত্রা: পদ্মা সেতুতে বাধা পেয়ে সাঁতরে নদী পাড়ির চেষ্টা, অসুস্থ ৩ শিক্ষার্থী

ভোলা প্রতিনিধিশরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ২৩: ০৪
পদযাত্রায় বাধা পেয়ে পদ্মা নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিন শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
পদযাত্রায় বাধা পেয়ে পদ্মা নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিন শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

‘দাবি মোদের একটাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’—স্লোগান নিয়ে ভোলা থেকে ঢাকা পদযাত্রায় পদ্মা নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিন শিক্ষার্থী। আজ বুধবার বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে আন্দোলনকারীরা দিক্‌ভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত লোকজন ও সেতু কর্তৃপক্ষ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি মো. আব্দুল জব্বার বলেন, পাঁচ দফা দাবিতে ভোলার ২০ শিক্ষার্থী সেতু ভবনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হেঁটে বিকেল ৪টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে আসেন। পদ্মা সেতু দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার অনুমতি না পেয়ে তাঁরা পদ্মা নদী সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেন। আমরা নিষেধ করা সত্ত্বেও তাঁরা সাঁতরে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছিলেন। পদ্মা সেতুর ৪২ নম্বর পিলারের কাছে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিবিএর লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন নোমান হাওলাদার, মো. তানজিম ও মেহেদী। তাঁদের বাড়ি ভোলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁদেরকে মাদারীপুর জেলা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পদযাত্রায় অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেতা মো. রশিদ আহমেদ ও মীর মোশারেফ হোসেন অমী।

রশিদ আহমেদ ও মোশারেফ হোসেন বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আজকের পত্রিকাকে জানান, তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার পর তাঁদের দলটি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়েছেন। এক ভাগ মাদারীপুরে রয়েছে, এক ভাগ শিমুলিয়া এবং এক ভাগ মাওয়া ঘাটে। তিনটি দলে তাঁরা প্রায় ৩৫ জন রয়েছেন। যাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আন্দোলনকারী জুলাই যোদ্ধা শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ভোলা-বরিশাল সেতুসহ ৫ দাবিতে ভোলা থেকে সড়কপথে হেঁটে ও নদী সাঁতরে ঢাকা পদযাত্রায় অংশ নেন ২০ শিক্ষার্থী। তাঁরা ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধা। পরে তাঁদের সঙ্গে পথে পথে অনেক শিক্ষার্থী যোগ দেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাশন থেকে ১১ নভেম্বর সকালে প্রথমে হেঁটে ভোলা সদরে আসেন তাঁরা। এরপর ১৪ নভেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকা দিয়ে সাঁতরে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে বরিশালের লাহার হাটে যান। তেঁতুলিয়া নদী সাঁতরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বরিশালে যান শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে আজ বুধবার পদ্মা নদী সাঁতরে ঢাকা সেতু ভবনের দিকে এগোচ্ছেন।

গ্যাসসমৃদ্ধ ভোলা জেলা একটি সেতুর অভাবে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা মো. শরিফ হাওলাদার বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, হেঁটে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা সেতু ভবনের দিকে যাব। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের বাধা দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে এবং ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা পদ্মা পাড়ি দিয়ে পদযাত্রা শুরু করেছি। অনেক হয়রানির শিকার হয়ে যাত্রা শুরু করছি।’

আন্দোলনকারীরা চরফ্যাশন থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে যাচ্ছেন। এর জন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করবেন না। এমনকি তাঁরা নদী পার হতেও কোনো নৌযান ব্যবহার করবেন না বলেও জানান পদযাত্রায় অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধা শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রা চলাকালে শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির সপক্ষে জনসাধারণের সমর্থন আদায়ে পথে পথে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। ঘোষণা অনুযায়ী সড়কপথে ঢাকা সেতু ভবনের সামনে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হওয়ার কথা।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, ভোলার ঘরে ঘরে পাইপলাইনে গ্যাস-সংযোগ, গ্যাসভিক্তিক শিল্প কলকারখানা, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমাদের কথা দিয়েছিল, আগামী ডিসেম্বরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কাজ শুরু করবে। কিন্তু তাদের কথা অনুযায়ী সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখছি না। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অন্যান্য দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতিও দেখছি না। তারই প্রতিবাদে চরফ্যাশন টাওয়ারের সামনে থেকে হেঁটে ভোলা টু ঢাকা সেতু ভবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছি। আমরা এখন পদ্মা নদী সাঁতরে ঢাকা সেতু ভবনের দিকে এগোচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...