Ajker Patrika

যানজটমুক্ত নতুন বাজার, বদলে যাচ্ছে ভোলা পৌরসভার দৃশ্যপট

শিমুল চৌধুরী, ভোলা 
যানজটমুক্ত ভোলার নতুন বাজার। ছবি: আজকের পত্রিকা
যানজটমুক্ত ভোলার নতুন বাজার। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভোলা পৌরসভার নতুন বাজার চত্বরে কদিন আগেও যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখতেন চালকেরা। ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করছিলেন দখলদারেরা। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিত। ভোগান্তিতে পড়ত সাধারণ পথচারীরা; ঠিকমতো হাঁটারও সুযোগ ছিল না। এলাকার ব্যবসায়ীদেরও ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছিল।

এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। এখন দৃশ্যপট অনেকটা বদলে গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা নতুন বাজার চত্বর এখন বেশির ভাগ সময় থাকে যানজটমুক্ত। রাস্তার ওপর আর নেই যত্রতত্র অটোরিকশা বা সিএনজি। নেই ফুটপাত দখলদারদের দৌরাত্ম্য। আগের সেই যানজটপূর্ণ এলাকা যেন নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শুধু নতুন বাজার নয়, বাংলা স্কুল মোড়, সদর রোড, যুগিরঘোলসহ শহরের বেশির ভাগ অংশ এখন অনেকটা যানজটমুক্ত।

সম্প্রতি পৌরসভায় নতুন ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। নিরলস পরিশ্রমে ভোলা পৌরসভাকে গুছিয়ে আনছেন পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। তাঁর পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে বদলে যাচ্ছে একসময়ের অগোছালো পৌরসভা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন বাজার চত্বরে আগের মতো আর রাস্তার ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা বা সিএনজি রাখা হচ্ছে না। ফুটপাতেও নেই হকারদের দোকান।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা পৌরসভা ফুটপাত দখল আর যানজটের সমস্যায় ভুগছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান গত বছরের ৯ অক্টোবর পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করেন, নতুন বাজারের নবনির্মিত মসজিদের সামনে নতুন অটোরিকশা স্ট্যান্ড স্থাপন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। শহরকে পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার কাজ শুরু করেন। শহরের লাইটপোস্টে বসানো হয় নতুন লাইট। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে নতুন ডাস্টবিন।

নতুন বাজার চত্বরে দায়িত্বরত ভিডিপি সদস্য মো. রাসেল বলেন, ‘আগে নতুন বাজার চত্বর, সদর রোড আর যুগিরঘোল এলাকায় তীব্র যানজট হতো। আমরা নিজেরাই বিরক্ত ছিলাম, পথচারীরাও অতিষ্ঠ ছিলেন। প্রশাসক স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা সিরিয়াল ঠিক রেখে কাজ করছি। তাই আগের মতো আর যানজট হয় না। পথচারীরাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারেন।’

স্থানীয় পথচারী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আগে অটোরিকশা যত্রতত্র রাখা আর ফুটপাত দখলের কারণে চলাচল করতে পারতাম না। প্রশাসক আসার পর অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে, এখন আর কোনো যানজট নেই। আমরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারি।’ তিনি এমন দৃশ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

নতুন বাজারের মিতা স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী স্বপন কুমার দে বলেন, ‘আগে দোকানের সামনে যানজট লেগেই থাকত। ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারিনি। কিন্তু এখন ফুটপাত উচ্ছেদ এবং ভিডিপির শৃঙ্খলা আনার কারণে আর যানজট হয় না। ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।’ ডিম ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও চাল ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, ‘শহরে যানজট কমে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা নেই। ব্যবসা করতেও অসুবিধা হচ্ছে না। শহরটা এখন অনেক সুন্দর।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইউছুফ বলেন, ‘আগে রাস্তায় গাড়ি চালাইতে খুব কষ্ট হইতো। এখন আর কষ্ট হয় না। আগের মতো লোকবলের অভাবও নেই। ট্রাফিকরা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’ অটোরিকশাচালক মো. রুবেল বলেন, ‘আগে অটোরিকশা বা সিএনজির কোনো স্ট্যান্ড ছিল না। প্রশাসক এসে নতুন বাজার এলাকায় স্ট্যান্ড করে দিছেন। তাই আর আগের মতো যানজট হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, নতুন বাজার, সদর রোড ও যুগিরঘোল এলাকায় দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট সমাধানের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ৩০ জন ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত যানজট নিরসনে কাজ করছেন। এ ছাড়া নতুন বাজার এলাকায় পৌরসভার জায়গায় অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড করা হয়েছে। ফলে রাস্তার ওপরে যে কৃত্রিম যানজট তৈরি হতো, তা এখন নেই। পৌরবাসীর সহযোগিতা পেলে আরও উন্নত ভোলা গড়ার আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...