Ajker Patrika

বিদায়ী প্রশাসকের অনিয়মের মচ্ছব

  • ভুয়া সভা দেখিয়ে ১৬টি হাইরাইজ ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়।
  • হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রিসোর্টের জায়গা কেনার বায়না।
  • নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ-পদায়ন।
খান রফিক, বরিশাল 
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিদায়বেলায় নানা সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাবেক বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক রায়হান কাওছারের বিরুদ্ধে। ভুয়া একটি সভা দেখিয়ে ১৬টি হাইরাইজ ভবনের প্ল্যান অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। মেয়াদ শেষ হলেও কয়েকজনের চুক্তি বাড়িয়ে গেছেন প্রশাসক। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সিটি করপোরেশনের রিসোর্টের জন্য কুয়াকাটায় জমি কিনেছেন তিনি। ১৫৯ জনকে ছাঁটাই করেও তাঁদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেননি।

সদ্য সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওছারের বিরুদ্ধে তিন দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে বিসিসি কার্যালয় এলাকায়। নগর ভবনে না ঢুকতে পেরে গত মঙ্গলবার বরিশাল ছেড়েছেন বিদায়ী এই প্রশাসক। সূত্র জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর থেকে তিনি কার্যালয়ে যাননি। এর মধ্যে ১৬ নভেম্বর বরিশাল নগর ভবনে একটি ভুয়া সভা দেখিয়ে উপস্থাপন করা ৪৬টি ভবনের প্ল্যানের মধ্যে ১৬টি সুউচ্চ ভবনের (৭ তলা থেকে ১০ তলা) প্ল্যান অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। করপোরেশনের ওয়েবসাইটে অনুমোদনের আদেশ পরদিন প্রকাশ করা হয়।

করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রশ্ন, প্রশাসক কার্যালয়ে না ঢুকে কীভাবে এতগুলো ভবনের নকশা অনুমোদন দিলেন। এ প্রসঙ্গে বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব রুম্পা সিকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের অনুমোদন প্রশাসক দেন। স্থপতি এ বিষয়ে বলতে পারবেন।

জানতে চাইলে বিসিসির স্থপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, রেজল্যুশনে হয়তো ভুল হয়েছে। সভা করেছেন অডিটরিয়ামে। উৎকোচের মাধ্যমে এসব প্ল্যান অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ পারলে প্রমাণ দেখাক।

এ প্রসঙ্গে সদ্য বিদায়ী প্রশাসক রায়হান কাওছার আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত পরশু তিনি ১৬টি প্ল্যানের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে ১৬ নভেম্বর নগর ভবনে না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, সাবেক প্রশাসক ১২ নভেম্বরের পর আর নগর ভবনে ঢোকেননি। ১৬ নভেম্বর নগর ভবনে যে সভা দেখিয়েছেন, তা ভুয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নকশা অনুমোদন পাওয়া নগরীর একজন বাসিন্দা বলেন, ভবনের প্ল্যান করতে গিয়ে তাঁর পায়ের জুতা কয়েকটি ছিঁড়তে হয়েছে। এক বছর ধরে তিনি ঘুরছেন। সব শেষে করপোরেশনের স্টাফদের মাধ্যমে প্রশাসককে ম্যানেজ করতে হয়েছে। প্রশাসক বদলি না হলে তাঁদের প্ল্যান পাস হতো না।

নিয়োগে অনিয়ম: সম্প্রতি বিসিসির অস্থায়ী ১৫৯ কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে তাঁদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ১২১ জন কর্মী বিক্ষোভ করছেন বিসিসি এলাকায়।

বিসিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, অস্থায়ী কর্মচারী সত্ত্বেও নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে চিফ অ্যাসেসর করে গেছেন সদ্য সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওছার। বেশ কয়েকজনকে পদায়নও করেছেন গায়ের জোরে। অবসরে যাওয়ার আগে চুক্তি বাড়ানোর নিয়ম না থাকলেও কয়েকজনের এক বছর বৃদ্ধি করেছেন। নতুন করে আটজনকে নিয়োগ দিয়ে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, টাকার বিনিময়ে তিনি অনেককে আইনবহির্ভূত নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছেন। ১৫৯ জনকে ছাঁটাই করেও তাঁদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেননি। বিশেষ করে ১২১ জনকে স্থায়ীকরণে নানা টালবাহানা করেছেন।

গতকাল কর্মচারীদের বিক্ষোভে এ নিয়ে কথা বলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আরাফাত মনির। তিনি বলেন, সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওছার তাঁদের ১২ জনের চাকরি স্থায়ীকরণের নামে হয়রানি করেছেন। বরং অনেককে উৎকোচ গ্রহণ করে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছেন।

জমি কেনায় অনিয়ম: এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সিটি করপোরেশনের রিসোর্টের জন্য কুয়াকাটায় সাত একর জায়গা কিনেছেন সদ্য সাবেক প্রশাসক। ১৭ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে এই জমি। জমি কিনতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসকের বিরুদ্ধে। কুয়াকাটায় রিসোর্ট করার নামে জমি কেনা নিয়ে এখন ক্ষুব্ধ করপোরেশনের কর্মচারীরাও।

তবে রিসোর্টের জন্য জমি কেনার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারির কিছু জানেন না দাবি করে রায়হান কাওছার বলেন, তিনি কম দামে জমি কিনেছেন।

তবে সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, প্রতি কাঠা জমিতে প্রশাসক ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

এ নিয়ে গতকাল কথা বলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আরাফাত মনির। তিনি বলেন, এ অবৈধ কর্মকাণ্ড হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এরপরও প্রশাসক কীভাবে রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনেন?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

টঙ্গীতে কাজ করতে এসে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, কারখানা ছুটি ঘোষণা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরে টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীর মিলগেট এলাকার হামিম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিসিএল (৩ নম্বর ইউনিট) সুইং বিভাগে কর্মরত শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

‎কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আজ কারখানাটির প্রায় সব শ্রমিক দুপুরের খাবার শেষে আবার কাজে যোগ দেন। এই সময় কারখানাটির অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎কারখানাটির নিরাপত্তাকর্মী পরেশ কান্তি দাস বলেন, দুপুরের খাবার শেষে সব শ্রমিক কারখানায় কাজ শুরু করেন। হঠাৎ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান কারখানার অন্য শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। আজ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে আজ সকালে একজন কারখানার কর্মী হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। খবরটি অন্য শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক, উদ্বেগ তৈরি হয়।

‎টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমানা হক বলেন, শারীরিক দুর্বলতা, বমি অনুভব হওয়া ও হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির অর্ধশতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রাথমিক সেবা শেষে প্রায় সবাই বাড়ি ফিরতে পারবেন।

‎হামিম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকালে কারখানার ফিনিশিং বিভাগে কর্মরত কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বেলা বাড়লে লুৎফরের মৃত্যুর খবরটি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাড়ির পাশের বাগানে মিলল সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের হিলিতে বাড়ির পাশের বাগান থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের গড়িয়াল গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর সবুর আকন্দ (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত অকিল আকন্দের ছেলে ও বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর বাসা থেকে বের হোন। এরপর তিনি বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহে ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ মণ্ডল (৩৭) মারা গেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদল কর্মী। সে পবহাটি এলাকার আফজাল মণ্ডলের ছেলে।

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মণ্ডলসহ অন্যরা পলাতক। আর ঘটনাস্থল থেকে জড়িতদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৌরভ আলম মণ্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত পাই। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসে। তাদের সবার বয়সই আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এর মধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে আর আমি তিনজনকে ঠেকাই। কিন্তু যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে তারাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু সৌরভকে চিনতে পারছি, বাকিদের চিনতে পারিনি।’

নিহতের স্ত্রী মোছা. সাথী বলেন, ‘আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। সন্তানদের কে দেখবে। যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদের যেন আল্লাহ কঠিন শাস্তি দেন।’

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে ঢুকেই সৌরভসহ অন্যরা মিলে মুরাদকে হত্যা করেছে। মুরাদের পেটে ছুরি মারে সৌরভ। মুরাদ আমার সঙ্গেই যুবদল করত। মুরাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে আজ এতিম হয়ে গেল। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সামছুজ্জোহা বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছি। থানায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

নড়াইল প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে হান্নান খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

হান্নান খান উপজেলার বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের বিরোধপূর্ণ একটি জমির মালিকানা নিয়ে ওই গ্রামের আয়ুব মোল্যা ও মিন্টু খানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ালে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। স্বজনেরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে হান্নান খান মারা যান।

পরিদর্শক জামিল কবির জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত