Ajker Patrika

বরিশাল বিএনপি

পাশে নেই মনোনয়নবঞ্চিতরা, বেকায়দায় দলীয় প্রার্থীরা

  • জেলার ৬ আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
  • কোনো আসনে বঞ্চিতরা নিষ্ক্রিয়, কোথাও নিজের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত।
খান রফিক, বরিশাল 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (নগর ও সদর) আসনে ধানের শীষের সমর্থনে ৯ নভেম্বর রিকশা শোভাযাত্রা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (নগর ও সদর) আসনে ধানের শীষের সমর্থনে ৯ নভেম্বর রিকশা শোভাযাত্রা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে মনোনয়নবঞ্চিতদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে নাম ঘোষণা করার পর প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বঞ্চিতদের অনুসারীরা। আর বঞ্চিত ব্যক্তিরা কোথাও নিষ্ক্রিয় রয়েছেন, আবার কোথাও নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন ওই পাঁচ আসনের বিএনপির প্রার্থীরা।

দলীয় সূত্র বলেছে, গত ১৭ অক্টোবর বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের প্রায় ৬০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই দিন সবার প্রতি তাঁর বার্তা ছিল—যিনি মনোনয়ন পাবেন তিনি বঞ্চিতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোলাকুলি করবেন। আর বঞ্চিতদের নিয়ে প্রার্থী কাজ করবেন। ৩ নভেম্বর বরিশাল জেলার ছয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দিন কোনো কোনো আসনে প্রার্থীর পাশে বঞ্চিতদের দেখা গেলেও এখন চিত্র পাল্টে গেছে। বরং কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও বঞ্চিতরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন। এ অবস্থায় কোনো কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কথা বলেছে। তবে বঞ্চিতদের সাফ কথা, চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মনোনয়নের প্রত্যাশা ছাড়বেন না।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ২১ নভেম্বর আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই জহির উদ্দিন স্বপন ১/১১-এর সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে চরম বিষোদ্গার করেছেন। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে এই আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁকে আবার মনোনয়ন দেওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাঁর আসনের প্রার্থী জহির ‍উদ্দিন স্বপন একলা চলো নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি যখন সংস্কারপন্থী ছিলেন, তখনকার লোকজন নিয়ে এখন নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পাওয়া রাজিব আহসানের পাশেও বঞ্চিত প্রার্থীদের দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও বরিশাল-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘প্রার্থী রাজিবের পাশে বঞ্চিতরা নেই, কারণ মনে কষ্ট আছে। আমারও কষ্ট আছে। তফসিল ঘোষণা হোক, তারপর দেখা যাবে।’

বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে মর্যাদার আসন বরিশাল-৫ (নগর ও সদর) আসনে শুরুতে অনেক প্রার্থী ও নেতাকে দেখা গেলেও এখন কেউ কেউ দূরে সরে আছেন। এই আসনে এবারও বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার। এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এবায়দুল হক চান, আফরোজা খানম নাসরিন তাঁর থেকে দূরে দূরেই থাকছেন। বরং রহমাতুল্লাহর রিকশা মিছিল এবং নাসরিনের গণসংযোগ স্পষ্ট করেছে, তাঁরা এখনো ভোটের মাঠ ছাড়েননি।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বলেছি, ‘যেহেতু প্রাথমিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আমি এখনো মনোনয়নপ্রত্যাশী। চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে আমি অবশ্যই প্রার্থীর সঙ্গে নেতা-কর্মী নিয়ে থাকব।’

নগর বিএনপির সদস্য এবং বরিশাল-৫ আসনে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আফরোজা খানম নাসরিনও একই রকম কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘উনি (সরোয়ার) কি ১৭ বছর মাঠে ছিলেন? মাঠে ছিলাম আমরা। তফসিল ঘোষণা করুক, ততক্ষণ লড়ব।’

এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকে কামান চেয়ে থাকে পিস্তলের আশায়। সামনে জেলা পরিষদ, মেয়র বহু সুযোগ আছে। হয়তো তাঁরা এমন আশায় আছেন।’

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আবুল হোসেনের পাশে নেই বঞ্চিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম রাজন। এ বিষয়ে রাজন বলেন, ‘৩ নভেম্বর দল প্রার্থী ঘোষণার পর আমি আবুল হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছি। কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত আমাকে ডাকেননি, ফোন দেননি, কিংবা খোঁজখবরও নেননি। নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।’

সার্বিক বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘দল যদি মনে করে, চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন আসতেও পারে। তবে ত্যাগীদেরই গুরুত্ব দিতে হবে। চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে নেতাদের মধ্যে এ দূরত্ব কমে আসবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাতক্ষীরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কলেজশিক্ষক নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরায় সীমান্ত আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক গোলাম আজম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি বাজারে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোলাম আজম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল গফফারের ছেলে।

আশাশুনি থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, প্রভাষক গোলাম আযম কলেজ হতে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাদাকাটি বাজারে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁকে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

আরডিএ কমপ্লেক্সকে ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৫৩
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়ে অবস্থিত আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১১টায় নাগরিক সমাজ, রাজশাহীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রাজশাহী।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনটি নির্মাণ করে। আওয়ামী শাসনামলে শুরু হওয়া প্রকল্পের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এর নাম পরিবর্তন করে সম্প্রতি মাসিক ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় এটি ১০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে একটি বেসরকারি স্কুল হয়েছে।

এর প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত এই ভবনটি হঠাৎ করে ১০ বছরের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা ভবনটির মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শের পরিপন্থী।’

তাঁরা বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নই, তবে যে উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি থেকে সরে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ বক্তারা বলেন, ‘১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি গড়ে তোলা জরুরি।’

এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। কর্মসূচিতে লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

বেরোবি সংবাদদাতা
‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও সক্রিয়ভাবেই চলছে রাজনৈতিক দলগুলো। সম্প্রতি (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেরোবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে বেরোবি শাখার ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক জরুরি সদস্য সমাবেশে বেরোবি শাখা শিবিরের ২০২৫ সেশনের বাকি সময়ের জন্য ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদান করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং ছাত্র সংসদ চালু করা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরই ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কমিটি গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটেও কাম্য নয়।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়ে পরিচালিত হয়ে আসার কথা ছিল কিন্তু কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে দলীয় কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমি মনে করি, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলীয় কমিটি গঠন শিক্ষার পরিবেশকে বিভক্ত, অস্থির এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিগত বছরগুলোতে আমরা সেগুলো পরিলক্ষিত করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতারও প্রতিফলন। আমরা চাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শিক্ষাঙ্গন হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অফিশিয়ালি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে শিক্ষার্থীরা কোন সাহসে, কার প্ররোচনায় কমিটি দেয়—সেটা আমার বোধগম্য হয় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি এই অবমাননাকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন প্রশাসনের ওপরে পুরো বিষয়টা। তারা যদি আবু সাঈদের ত্যাগকে মনে রাখে, তাহলে এই অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করবে। লিস্ট আছে, নাম আছে, পরিচয় আছে। প্রশাসন যদি এবার শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি কখনোই শেষ করা সম্ভব হবে না।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত সরকার পলক বলেন, ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কমিটি গঠন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের স্থান, কোনো দলের আধিপত্যের নয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুধু বিভাজন ও অশান্তি বাড়ায়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ক্যাম্পাসকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ আর-রহমান স্বপ্নীল বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক কমিটি ঘোষণাগুলো আমাকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে উদ্বিগ্ন করেছে। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি সাধারণত শিক্ষার পরিবেশকে অস্থির করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় এমন জায়গা হওয়া উচিত যেখানে পড়াশোনা, নিরাপত্তা আর নিরপেক্ষ পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়া আমাদের জন্য ভালো কোনো সংকেত নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘ছাত্রশিবির যখন কমিটি প্রকাশ করেছিল, আমরা তাদের ডেকেছিলাম। তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মর্মে অঙ্গীকার করে বলেছে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনীতি করবে না, যা করবে ক্যাম্পাসের বাইরে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘দেখলাম ছাত্রদল তাদের কমিটি করেছে, কমিটিগুলো তো এখান থেকে করা হয় না; ঢাকা থেকে করা হয়। যেহেতু কমিটি করা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তকে সম্মান রেখে সেভাবেই কার্যক্রম চালাবে বলে আশা করি। তারপরও কেউ যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে শৃঙ্খলা কমিটি এবং সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

টনসিল-পলিপস অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকার ইএনটি হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ওই রোগীর নাম রিংকি আক্তার (২০)। হাসপাতালটিতে পলিপস ও টনসিলের অস্ত্রোপচারে (অপারেশন) রিংকির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। এ ঘটনার পর হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রিংকি জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। আজ শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রিংকির গলায় সমস্যা দেখা দিলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখান থেকে জানানো হয়, তার টনসিল ও পলিপসের সমস্যা আছে। তবে এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পরবর্তী সময়ে মাইজদীতে নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইএনটি হাসপাতালে চেম্বার করা ডা. মো. মজিবুল হকের কাছে নিয়ে আসি। তাঁকে দেখানোর পর তিনি জানান দুটি সমস্যার জন্য ছোট অপারেশন করতে হবে। মজিবুল হকের কথামতো ২৫ নভেম্বর দুপুরে রিংকিকে হাসপাতালে আনা হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টনসিল ও পলিপসের অপারেশন করা হয়। এর পরদিন তাড়াহুড়ো করে তাঁকে রিলিজ করে দেন ডাক্তার। বাড়ি নেওয়ার পর থেকে রিংকির শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজ শনিবার সকালে রিংকির গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে আমরা দ্রুত তাকে ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে আসি। এখানে আনার পর তাঁরা জানান, সে মারা গেছে। এরপর দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান ডা. মজিবুল হক ও অন্যরা।’

তবে এ বিষয়ে জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের ব্যবহৃত মোবাইলে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রাথমিক তথ্যাদি নেওয়া হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত