Ajker Patrika

আল জাজিরার প্রতিবেদন /স্টেট ক্যাপচার: যে ব্যবস্থায় পাকিস্তানের জিডিপির ৬% গিলে খাচ্ছে অভিজাতরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক নতুন মূল্যায়ন বলছে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ দুর্নীতি। দেশটি এমন এক ‘স্টেট ক্যাপচার বা রাষ্ট্র দখল’ পরিস্থিতিতে আটকে গেছে, যেখানে নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ছোট্ট একটি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে, আর তাদের স্বার্থে রাষ্ট্রের নীতি প্রায়ই বদলে যায়।

চলতি বছরের নভেম্বরে চূড়ান্ত হওয়া আইএমএফের গভর্নেন্স অ্যান্ড করাপশন ডায়াগনস্টিক অ্যাসেসমেন্ট (জিসিডিএ) পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্রকে এক অচল, বিধ্বস্ত কাঠামো হিসেবে চিত্রিত করেছে। যে কাঠামো নিয়মকানুন প্রয়োগ করতে পারে না, এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতেও অক্ষম। ১৮৬ পাতার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে দুর্নীতি ‘স্থায়ী ও ক্ষয়কারী।’ এই দুর্নীতি বাজারকে বিপথে ঠেলে, জনগণের আস্থা নষ্ট করে দেয় এবং আর্থিক স্থিতি ভেঙে ফেলে।

পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে তৈরি এই মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, ‘অভিজাতদের সুবিধা দেওয়ার’ এই কাঠামো ভেঙে না ফেললে দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাজের নিম্ন থেকে উচ্চ—সব স্তরেই দুর্নীতির ঝুঁকি আছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি ঘটে সেখানে, ‘যেখানে রাষ্ট্র সম্পৃক্ত বা রাষ্ট্রায়ত্ত শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলো মূল অর্থনৈতিক খাতগুলোকে নিজেদের সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করে।’

গভর্নেন্স ও জবাবদিহি শক্তিশালী হলে পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক লাভ পেতে পারে বলে মনে করে আইএমএফ। ২০২৪ সালে দেশটির জিডিপি ছিল ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আইএমএফ বলেছে, সুশাসন সংস্কারের পূর্ণ প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা গেলে পাঁচ বছরে পাকিস্তানের জিডিপি ৫ থেকে ৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক স্টেফান ডারকন দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানকে অর্থনীতি পুনর্গঠনে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি বলছেন জবাবদিহির অভাব দেশটির সম্ভাবনাকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে। তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহির নীতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলোকে সীমাহীন সুযোগ দেয়। অর্থনৈতিক সংস্কারের কেন্দ্রে এ সমস্যাকেই লক্ষ্য করা জরুরি।’

১৯৫৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান আইএমএফের সহায়তা নিয়েছে মোট ২৫ বার। সামরিক বা বেসামরিক—প্রায় সব প্রশাসনই আইএমএফের কাছে গিয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সময়ে।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যার এক মাস পরেই আইএমএফের নির্বাহী পরিষদ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অর্থ ৩৭ মাসব্যাপী ৭ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির অংশ। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অল্পের জন্য দেউলিয়া হতে হতে বেঁচে যায়। আইএমএফ সে সময় ৯ মাসের জরুরি সহায়তা কর্মসূচির হাত বাড়িয়ে দেয়, যার পরপরই শুরু হয় বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রাম।

জিসিডিএ জানায়, বৈশ্বিক শাসন সূচকে পাকিস্তান বহু বছর ধরেই নিচের দিকেই অবস্থান করছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সূচকে দেশটির অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে খারাপ পারফরমারদের তালিকায়ই রয়ে গেছে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘স্টেট ক্যাপচার’ ধারণা। যেখানে দুর্নীতি ব্যতিক্রম নয়, বরং শাসনের প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়। প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র বহু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় কিছু গোষ্ঠীকে সম্পদশালী করার জন্য। জনস্বার্থ সেখানে অগ্রাধিকার পায় না। প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের এলিট শ্রেণি ভর্তুকি, কর ছাড় ও লাভজনক রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে বিশেষ গোষ্ঠীর একচ্ছত্র প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশটির অর্থনীতি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বের করে নেয়। অন্যদিকে কর ফাঁকি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত বেসরকারি বিনিয়োগকে চুষে খায়।

এই প্রতিবেদনের আগে, ২০২১ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী সামরিক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শক্তির প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধার পরিমাণ দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ৬ শতাংশ।

লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসের সহযোগী অধ্যাপক আলি হাসানাইন আইএমএফের এই প্রতিবেদনকে যথাযথ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, এটি ‘কোনো নতুন কথা নয়।’ তিনি বলেন, ২০২১ সালের ইউএনডিপি প্রতিবেদনসহ বহু দেশীয় গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো বছরের বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর সুবিধা রক্ষা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আলি হাসনাইন বলেন, ‘আইএমএফ আবারও সেই কথাই বলেছে, যা বহু দেশীয় গবেষণা, বিশ্বব্যাংক এবং পাকিস্তানের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই দেখিয়েছে—প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে নিয়মকানুনকেই বদলে নেয়।’

আইএমএফের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট, উৎপাদন খাত ও জ্বালানির মতো প্রভাবশালী খাতগুলোর জন্য দেওয়া কর-ছাড় ও নানা ছাড়ের ফলে শুধু ২০২৩ অর্থবছরেই রাষ্ট্রের জিডিপির ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ সমপরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারি চুক্তিতে প্রভাবশালী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা বন্ধ করার আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিলের (এসআইএফসি) কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা আনার তাগিদ দিয়েছে।

২০২৩ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রথম মেয়াদকালে গঠিত এসআইএফসি একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব গঠিত এই সংস্থার উদ্দেশ্য হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো। সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে একে তুলে ধরা হলেও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে এটি শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআইএফসির কর্মকর্তাদের—যাদের অনেকেই সামরিক বাহিনী থেকে আসা—ব্যাপক আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এটি বড় ধরনের শাসনসংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি করছে। এই নিরাপত্তা এবং প্রকল্পকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

স্বচ্ছতার অভাব তুলে ধরে জিসিডিএ বলেছে, এসআইএফসিকে প্রতি বছর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। তাতে কোন কোন বিনিয়োগ সহজ করা হয়েছে, কী ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর যুক্তি কী—এসব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিলকে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো এখনো পরীক্ষিত নয়।’

প্রতিবেদনটি পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থাকে আরেকটি গুরুতর জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাকিস্তানের আদালতগুলোতে ২০ লাখের বেশি মামলা ঝুলে আছে। শুধু ২০২৩ সালেই সুপ্রিম কোর্টে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তান দুটি সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করেছে, যেগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

সমালোচকদের মতে এগুলো ‘সংবিধানিক আত্মসমর্পণের’ শামিল। সর্বশেষ সংশোধনী একটি সমান্তরাল ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট তৈরির পথ তৈরি করেছে, যা সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমাতে পারে। একই সঙ্গে বিচারপতি নিয়োগ ও বদলির নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে নির্বাহী বিভাগকে বিচার বিভাগে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেবে। সরকার অবশ্য বলেছে, এসব পরিবর্তন বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা হয়েছে।

একই ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা-সংকটে ভুগছে দুর্নীতি তদন্তকারী দুটি প্রধান সংস্থা—ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব) ও ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। জিসিডিএ ২০২৪ সালের এক সরকারি টাস্কফোর্সের কথা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাব মাঝে মাঝে তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে। এই বেছে বেছে জবাবদিহির প্রক্রিয়া জনআস্থার ক্ষতি করেছে এবং আমলাতন্ত্রের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বাভাবিক ধীর গতি দেখা দিয়েছে।

ন্যাব বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন রুপি বা ১৭ বিলিয়ন ডলার উদ্ধার করেছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দণ্ডাদেশের হার এখনো খুব কম। প্রতিবেদনটি ন্যাবের নিয়োগ ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ পরিবর্তে ‘নিয়মভিত্তিক প্রয়োগে’ ফিরতে হবে।

সরকার কী করতে পারে?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের অর্থনীতির যে চেহারা আমরা আজ দেখি, তার মূল ভিত্তি বা পথ বহুদিন ধরেই তৈরি করেছেন রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো। তারা জমি, ঋণ, শুল্ক থেকে শুরু করে নানা নিয়ন্ত্রণ সুবিধায় অগ্রাধিকার পেয়ে এসেছে। আইএমএফের পর্যবেক্ষণ তাই নতুন কিছু নয়।

হাসানাইন মনে করেন, দুর্নীতি এবং বাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও জননীতিতে অভিজাতদের দখল রাজনৈতিক প্রকৃতির। তাই গভীরতর সংস্কার ছাড়া এগুলো মোকাবিলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বিস্তৃত রাজনৈতিক জাগরণ ছাড়া শাসনব্যবস্থার সংস্কার কেবলই প্রযুক্তিগত টুকরো-টাকরা, যা দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো। শেষ পর্যন্ত অভিজাত দখল ভাঙে তখনই, যখন রাজনৈতিক প্রণোদনার ধারা পাল্টে যায়।’

অন্যদিকে ইসলামাবাদভিত্তিক থিংক ট্যাংক সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের সাজিদ আমিন জাভেদ ইঙ্গিত করেন আরেকটি সমস্যার দিকে। তাঁর ভাষায় এটি হলো—নীতি প্রণয়ন ব্যবস্থা দখল। যারা শাসনব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের খসড়া তৈরি করেন, তারাই প্রায়শই সেই অভিজাত গোষ্ঠীর অংশ।

তাঁর ভাষায়, ‘নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে অভিজাতদের দখলই হলো মূল শক্তি, যা পুরো দখল কাঠামোকে টিকিয়ে রাখে। প্রতিবেদনের সুপারিশ পরিষ্কার বলে দেয়, বর্তমান সংকট থেকে বেরোতে আমাদের অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির দিকে যেতে হবে।’

হাসানাইনের কাছে সবচেয়ে জরুরি সংস্কার হলো—একটি একীভূত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, যা প্রধানমন্ত্রীর সম্পূর্ণ আওতাধীন থাকবে এবং স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন ‘কমিটি, কাউন্সিল, টাস্কফোর্স আর একের পর এক ওভারল্যাপিং মন্ত্রণালয়ের জটলায়’ ডুবে আছে। প্রতিটি দলই দায়বদ্ধতা ছাড়া নিজস্ব নথি তৈরি করে।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে এসব ছড়ানো কাঠামো একত্র করতে হবে। স্পষ্ট অগ্রাধিকার, সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ভিত্তিতে একটি সুসংহত সংস্কার প্ল্যাটফর্ম গড়া দরকার। অগ্রগতি মাসে মাসে প্রকাশ হতে হবে, জনসমক্ষে আলোচিত হতে হবে এবং স্বাধীন পর্যালোচনার আওতায় আসতে হবে।’ হাসানাইনের মতে, এই একীকরণ সমন্বয় বাড়াবে, জনআস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে দৃঢ়তার সংকেত দেবে।

জাভেদের কাছে সবচেয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার হলো—সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা পুনর্গঠন। সরকারি দপ্তরগুলো যে পদ্ধতিতে পণ্য ও সেবা কেনে, সেটির মাধ্যমেই পাবলিক অর্থ ব্যয় হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রয়ব্যবস্থা মুদ্রার সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। এখানে মানের মূল্যায়ন নয়, বরং অর্থের পরিমাণই মুখ্য। সর্বনিম্ন দরদাতা সাধারণত বিড জিতে যায়।’ তাঁর মতে, এই ব্যবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ না গিয়ে কমদামি, কিন্তু অদক্ষ হাতে চলে যায়। এই ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।

জাভেদ আরও বলেন, ‘যদি আমরা স্বচ্ছ ও সজীব অর্থনীতি চাই, তবে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোই সংস্কারের মুখোমুখি করতে হবে। এর বিকল্প নেই।’

আল–জাজিরা থেকে সংক্ষেপিত

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...